শহুরে বালিকা যখন আমি
তখন কেবল দূর্বা ঘাস আর
সার্কিট হাউজের কৃষ্ণচুড়াই চিনতাম।
ব্যাচেলর কোয়ার্টারের দীঘির পাড় জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা
সারি সারি নারকেল গাছও চিনতাম বেশ।
স্কুল ছুটির শেষে পিঁপড়ের মত
নারকেল ফুল চুষে চুষে খেতাম।
বাজারের থলে ভরে বাবা লাল টুকটুকে
টমেটো আনতো যখন
সারা মেঝে গড়িয়ে ছড়িয়ে যেত সে রঙ
আমি খুশিতে ছটফট করে উঠতাম
সবচাইতে লাল আর সবচাইতে তুলতুলে
টমেটো-টা আমার যে দখল করতেই হবে।
কোন কোনদিন গোল আলুতেও হুটোপুটি খেতাম
আর যেদিন লালমুকুট পরা
মোরগ ঢুকতো ঘরে বাবার সাথে সাথে
সেদিন কথার বন্যা বইয়ে দিতাম
ওর সাথে…
ওর নরম পালকে, মুকুটে
আমার আদর খুলে খুলে আসতো।
চাল নিয়ে ওর মুখের সামনে
আমার অনুনয় যেইনা আজ্ঞাপ্রাপ্ত
তখনই বাবা ছুরি বের করে আনতো
শুরু হতো মরন কাঁদন আমার
কিছুতেই মেনে নিতে পারতাম না
ঐ লক্ষীসোনা মোরগটা দিয়েই কিনা
দুপুরে ভাত খেতে হবে আমাদের।
বিকেল হলেই রুপসার ঐ পার হতে
গল্লামারির আকাশ অব্দি
বকের মালায় ভরে যেত।
আমার অবাক চোখ হা করে গিলত সেসব
আর আম্মুকে হয়রান করে
তুলতাম বলে বলে, ওরা কোথায় যায় এত?
কালো কা কা পাখিটা তো রোজ
খাবার নিয়ে পালাতো
আমার হাত থেকে।
কি সব ভয় হতো আমার দাঁড়কাক দেখলে
"ভুতের ভাই না বোন
না জানি কে ও"
দৌড়ে আম্মুর আঁচলের ভেতরে লুকোতাম।
একদিন দুম করে আমরা
শহর ছেড়ে গ্রামে চলে এলাম
স্কুলের মাঠ, খেলার সাথী সব ছেড়ে
পেলাম কিনা হাতের মুঠোয় আস্ত জোনাক পোকা।
খোলা আকাশের নিচে কাঠের চুলোয় আম্মু যখন
ধোঁয়া তুলে ভাত রান্না করতো
কি দারুন লাগতো গন্ধটা।
মাটি কুপিয়ে একদিন আমরা টমেটো গাছ লাগালাম
ফুলকপি, মটরশুটি আরও কত কি
বাগান ভরে ফেললাম সবুজে।
সকাল – সন্ধ্যে গাছের গায়ে লেগে থাকতাম
না জানি কখন ধরে আমার লাল-টুকটুকে টমেটো
হঠাৎ একদিন বাগানের পুব কোনটা
ঘন সবুজে ভরে গেল
আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম
দেখ দেখ মাটি থেকে কি বের হয়েছে
বাবা দৌড়ে এসে বললো “এতো আলু গাছ”
আমি বললাম – এ বুঝি আলু গাছ!
আলু কই বাবা?
বাবা হাসলো।
মহা উৎসবে পরে আমরা মাটি খুঁড়ে আলু তুলেছিলাম
সে কি বিস্ময় আমার!
যেদিন প্রথম কাঁচা টমেটোয় লাল রঙ লাগলো
ওমনি সারা বাড়ি মাতোয়ারা
কত কত লাল মুকুট পরা মোরগে
ভরে গেল আমাদের উঠোন।
আম্মুর লাউয়ের মাচায় টুনটুনি
যেদিন বাসা বাঁধলো সেদিন
আর চোখ সরাতে পারিনা আমি
এত এত রহস্য এই গ্রামে
ভেবেই মরতাম খালি।
দুটিতে মিলে চারটি হলো এক সকালে
সেই খুশিতে স্কুল কামাই হলো বেশ।
আরও্ আরও সব রহস্যের ভুবনে
হারিয়ে গেল শহুরে ছোট্ট বালিকাটি।
জানতে জানতে এখন আমি সব জানি
গুড় কিসে হয়, কি করে পিঠে হয়
কচুর লতিতে কোন মাছ দিলে স্বাদ হয়
সঅব জানি।
শহুরে চোখে গ্রাম চেনার
সেই আনন্দ সেই উৎসব
সেই ঘোর নিয়ে আজো আমি
লাফিয়ে উঠি রাজপথে হঠাৎ
একটা ঘোড়ার গাড়ি দেখলে
আজও আমি চিৎকার দিয়ে উঠি
অচেনা ভীড়ে চেনা মুখ দেখলে
তুই!
তুমি!
আপনি!
আজ আমি আলুগাছের মতো
মানুষ খুঁড়ি, হৃদয় উপড়ে উপড়ে খুঁজি
স্নেহ, ভালোবাসা, বিশ্বাস।
কি শহরে, কি গ্রামে।
তখন কেবল দূর্বা ঘাস আর
সার্কিট হাউজের কৃষ্ণচুড়াই চিনতাম।
ব্যাচেলর কোয়ার্টারের দীঘির পাড় জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা
সারি সারি নারকেল গাছও চিনতাম বেশ।
স্কুল ছুটির শেষে পিঁপড়ের মত
নারকেল ফুল চুষে চুষে খেতাম।
বাজারের থলে ভরে বাবা লাল টুকটুকে
টমেটো আনতো যখন
সারা মেঝে গড়িয়ে ছড়িয়ে যেত সে রঙ
আমি খুশিতে ছটফট করে উঠতাম
সবচাইতে লাল আর সবচাইতে তুলতুলে
টমেটো-টা আমার যে দখল করতেই হবে।
কোন কোনদিন গোল আলুতেও হুটোপুটি খেতাম
আর যেদিন লালমুকুট পরা
মোরগ ঢুকতো ঘরে বাবার সাথে সাথে
সেদিন কথার বন্যা বইয়ে দিতাম
ওর সাথে…
ওর নরম পালকে, মুকুটে
আমার আদর খুলে খুলে আসতো।
চাল নিয়ে ওর মুখের সামনে
আমার অনুনয় যেইনা আজ্ঞাপ্রাপ্ত
তখনই বাবা ছুরি বের করে আনতো
শুরু হতো মরন কাঁদন আমার
কিছুতেই মেনে নিতে পারতাম না
ঐ লক্ষীসোনা মোরগটা দিয়েই কিনা
দুপুরে ভাত খেতে হবে আমাদের।
বিকেল হলেই রুপসার ঐ পার হতে
গল্লামারির আকাশ অব্দি
বকের মালায় ভরে যেত।
আমার অবাক চোখ হা করে গিলত সেসব
আর আম্মুকে হয়রান করে
তুলতাম বলে বলে, ওরা কোথায় যায় এত?
কালো কা কা পাখিটা তো রোজ
খাবার নিয়ে পালাতো
আমার হাত থেকে।
কি সব ভয় হতো আমার দাঁড়কাক দেখলে
"ভুতের ভাই না বোন
না জানি কে ও"
দৌড়ে আম্মুর আঁচলের ভেতরে লুকোতাম।
একদিন দুম করে আমরা
শহর ছেড়ে গ্রামে চলে এলাম
স্কুলের মাঠ, খেলার সাথী সব ছেড়ে
পেলাম কিনা হাতের মুঠোয় আস্ত জোনাক পোকা।
খোলা আকাশের নিচে কাঠের চুলোয় আম্মু যখন
ধোঁয়া তুলে ভাত রান্না করতো
কি দারুন লাগতো গন্ধটা।
মাটি কুপিয়ে একদিন আমরা টমেটো গাছ লাগালাম
ফুলকপি, মটরশুটি আরও কত কি
বাগান ভরে ফেললাম সবুজে।
সকাল – সন্ধ্যে গাছের গায়ে লেগে থাকতাম
না জানি কখন ধরে আমার লাল-টুকটুকে টমেটো
হঠাৎ একদিন বাগানের পুব কোনটা
ঘন সবুজে ভরে গেল
আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম
দেখ দেখ মাটি থেকে কি বের হয়েছে
বাবা দৌড়ে এসে বললো “এতো আলু গাছ”
আমি বললাম – এ বুঝি আলু গাছ!
আলু কই বাবা?
বাবা হাসলো।
মহা উৎসবে পরে আমরা মাটি খুঁড়ে আলু তুলেছিলাম
সে কি বিস্ময় আমার!
যেদিন প্রথম কাঁচা টমেটোয় লাল রঙ লাগলো
ওমনি সারা বাড়ি মাতোয়ারা
কত কত লাল মুকুট পরা মোরগে
ভরে গেল আমাদের উঠোন।
আম্মুর লাউয়ের মাচায় টুনটুনি
যেদিন বাসা বাঁধলো সেদিন
আর চোখ সরাতে পারিনা আমি
এত এত রহস্য এই গ্রামে
ভেবেই মরতাম খালি।
দুটিতে মিলে চারটি হলো এক সকালে
সেই খুশিতে স্কুল কামাই হলো বেশ।
আরও্ আরও সব রহস্যের ভুবনে
হারিয়ে গেল শহুরে ছোট্ট বালিকাটি।
জানতে জানতে এখন আমি সব জানি
গুড় কিসে হয়, কি করে পিঠে হয়
কচুর লতিতে কোন মাছ দিলে স্বাদ হয়
সঅব জানি।
শহুরে চোখে গ্রাম চেনার
সেই আনন্দ সেই উৎসব
সেই ঘোর নিয়ে আজো আমি
লাফিয়ে উঠি রাজপথে হঠাৎ
একটা ঘোড়ার গাড়ি দেখলে
আজও আমি চিৎকার দিয়ে উঠি
অচেনা ভীড়ে চেনা মুখ দেখলে
তুই!
তুমি!
আপনি!
আজ আমি আলুগাছের মতো
মানুষ খুঁড়ি, হৃদয় উপড়ে উপড়ে খুঁজি
স্নেহ, ভালোবাসা, বিশ্বাস।
কি শহরে, কি গ্রামে।
0 comments :
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন