রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৩

Posted by এম.জামান |
বাসায় এস না - রজনীগন্ধার দোকান পুড়ে গেছে,
পেয়েছ অবসর এখন একটু
"চাঁদের পাহাড়" পড়ে দেখ;
দেখা হলে মিলিয়ে নেব আমাদের হুল্লোড়।
পাড়ার মোড়ে পড়েছে বোমা
ভয় পেয়ে রিক্সা থেকে নামতে গিয়ে 
কোল থেকে বাচ্চা পড়ে গেছে দোতালার মিনু ভাবির;
হাসপাতালে যেতে পারছেনা নিয়ে, 
আর তুমি কিনা আসবেই মুড়ি মাখা খেতে এই মেঘলা দিনে ?
পকেটে রাখা কবিতাগুলো তুলে রেখ লকারে 
গয়নার চেয়েও দামী ওগুলো;
টুপি পড়বে সেও তো উপায় নেই
চুল কাটবে নাকি মোচ রাখবে ভেবে তো হয়রান
কি করে কিনবে সকালের প্রথম চা ?
আমি হলপ করে বলতে পারি 
মিছিলে পোড়া ধোঁয়া দেখে 
তুমি ভাববে আগুন লেগেছে আমার বাড়ি।
ভুল করেও এসনা, 
রাস্তায় এখন দানবের ছায়া ।

Posted by এম.জামান |
জোড়া জোড়া খুনের ভেতর
দিয়ে যাচ্ছে শহর,
গলির পর গলি ভিজিয়ে দিয়ে
অচেনা আগুন্তকের ঘাম।
ফিস ফিস হলেই বুঝি
সিটকিনি দিতে হবে
মজবুত করে...
হাত বোমায় লেপ্টে গেছে
কার যেন শিশু,
জুতো কালির বাহানায়
ওঁৎ পেতে থাকে 
চাষ করা বিপ্লব।
নতুন কোন আকাশে নাকি
উঠবে সকাল!
আলমারি খুলে দেখি
চুরি হয়ে গেছে 
বেখেয়ালে গীতবিতান।
ভালই হয়েছে,নয়ত
রক্ত খেকোর গিলটিনে
আরও একধাপ সংখ্যা বাড়বে।
              কি হবে?
ভোর নাকি অনন্ত রাত
কেউ জানেনা।
সব যাত্রী কি উঠতে পেরেছে
কোনদিন রাতের ট্রেনে?

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

Posted by এম.জামান |
আমল যায় আমল আসে 
রাজা আসে রাজা যায় 
কথা রাখার দিন ফুরায়।
ঈগল নাকি ময়ূর 
সিংহ নাকি বাঘ 
ঘুরে ফিরে একই জবাব।
আমাদের তো নেই তাতে
কোন ফায়দার মাথা
ওদের ঘরে মজুদ সবই 
আমাদেরই নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
থলে ভরা বুলি সবার
বুলি দিয়ে মেটে কি আর দেশের অভাব।
Posted by এম.জামান |
চারিদিকে এত সব মন খারাপের ভিড়ে
আমি তবু আশা করে থাকি তুমি হাসবেই
মেঘ শেষে ক্ষ্যাপা রোদ এসে ব্যালগুণী খুব করে জড়াবেই।
আমি তাই উড়িয়ে দেই বিষাদের পাহাড়
আসন্ন ভালবাসার উৎসবে মণ্ডা মিঠাই বিলিয়ে।
আমি কলাপাতা মোড়া একটু স্নেহ
আর আতর মাখা একটু খুশি পেলে
পেছনে বিষ ঢালা আগুন
বিবাহের জরি দিয়ে ঢেকে ফেলি,
ভারী ভারী বেদনার হাওয়ায়
আমাদের জীবনের পর্দা উড়ুক উড়ুক 
আমি একদম খুলে রাখব সদর দরজা অব্দি
সবশেষে তবু তোমার চরণ দুখানি পড়ুক। 

বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৩

Posted by এম.জামান |
মই দিয়ে আমার পাকা ধানে
নিশ্চিত হতে চেয়েছ তুমি
চেয়েছ আমার মুঠোর মুড়িতে
শুনতে তোমার দাঁতের মচমচ
রুই থেকে তেলাপিয়া সব
চেয়েছ নিজের জালে তুমি
ব্যাঙ কেঁচোর রেসিপি তুলে
দিয়েছ কেবল আমার হাতে।

তোমার চুলোর আগুনে পোড়ে

আমার আঙ্গিনার খড়কুটো
আমার জুতোর সুকতালোয় তুমি
মহল্লার পর মহল্লা হাঁটো,
এত সব করেও তুমি আবার
গেঁথে দিয়েছ জোড়া সেফটিপিন
আমার বাক নালিতে।

কারন, তোমার আগে ও পরে

লাগে অভিনব সেফটি,
আমার জিহ্বা, আমার ওষ্ঠে 
আমার দেয়ালে, আমার দ্বারে
ঝুলিয়ে দিয়েছ রেশন করে
দাড়ি, কমা থেকে ফুলস্টপটি।

**আমাদের বিচার বুদ্ধির ভাল মন্দে শেকল দেয়ার দুঃখে আর অভিমানে লেখা আমার ছোট্ট কবিতাঃ 'সেফটিপিন'





Posted by এম.জামান |
আমাদের এই ফিরে যাবার তাগিদ ঘরের চাবিকে হারাতে দেয়না
এখন তো দারুন দরজা, ওপাশের মুখ দেখে খুলে দেই সিটকিনি
একটু পুকুর, একটু ঘাস, মাটি শিউলি তলা কি হেতুর বায়না
টবের মাটি সুখ দেবে তাই চিকন বারান্দার ফ্ল্যাট কিনি।
আমাদের ছুটি মাপা খুব বিকেল কাটে অপেক্ষার বাসে
দম ফেলি উটকো ঘ্রাণে মাধবী রাত তাই অচেনা
আমাদের গল্প থামার আগে সকালের কাগজ আসে
মিছে মিছি চাবি হারালে আমরা ফিরি অথবা ফিরিনা।


Posted by এম.জামান |
দিনকে দিন দূর হয়ে যাচ্ছে শহর
দেয়ালে দেয়ালে পেরেক
কোন শহর নেই আমার 
নেই হুটোপুটি করা কোন পুকুর ঘাট।

ছ'ঘণ্টার দুরত্বে আমার যাতায়াত 
ঢাকা টু পাবনা - পাবনা টু ঢাকা
কোথাও আমার মধুর শৈশব নেই
নেই ঘাসপাতা খেলার মাঠ।

আমি তো সেই কবেই খুইয়ে এসেছি
আমার চেনা মোড়ালি বাবুর মোড়
সোনাডাঙ্গার আকাশে ঈদের চাঁদ
রূপসার জলে ভাসা বড় বাজারের হাট।

এখন আর আমার নিজস্ব কোন
শহর নেই, নেই নিজের কোন
প্রিয় পাড়া, প্রিয় ফেরিওয়ালা 
নেই নিজের কোন প্রিয় দোকানপাট।

মায়ের মত স্নেহ ঢালা শহর
হারিয়ে গেছে আমার 
খেলার সাথীদের হাত থেকে
ছুটে গেছে হাত হুটহাট।

কোন ফাঁকে জীবন থেকে মুছে গেছে
বলাকা ওড়া কোমল বিকেল
সরে গেছে দূরে বেখেয়ালে
নিজের শহরে যাওয়ার রাস্তাঘাট।
Posted by এম.জামান |
ডাকছো কি আমায় 
আরও একবার
প্রিয় ভেবে
জোড়া গেটের মাঠে
সোনাডাঙ্গার মোড়ে

ছোট্টবেলার শহর, আমার প্রিয় শহর
খুলনা তুমি ডাকছ কি আমায়,

মায়াঢালা ঐ পথে
আমার পায়ের ধুলো
তুমি নেবে কি আবার
একি স্বপ্ন বলো
আবার দেখবো তোমার আকাশে
ঈদের চাঁদ খুশির ভিড়ে

ছোট্টবেলার শহর, আমার প্রিয় শহর
খুলনা তুমি ডাকছ কি আমায়,

হারানো সব বন্ধুরা মিলে
আবার কুড়াবো বকুল খুব ভোরে
আবার ভাসাবো কাগজের নৌকো
রুপসার জলে বন্ধু তোর হাত ধরে
এতদিনের জমানো সব কান্না
দেব তোমার বুকে উজাড় করে

ছোট্টবেলার শহর, আমার প্রিয় শহর
খুলনা তুমি ডাকছ কি আমায়...
Posted by এম.জামান |
ব্যাঙ রাজপুত্রের আশায়
তুমি আর কতকাল বেণীতে লাল ফিতে
জড়াবে গো নন্দীতা।
তোমার বাসন মাজা হাতে
যত কালি আছে লেগে
তারও বেশি কালি আছে লেপা
তোমার ঐ অনাবৃত দেহে-মনে।
দানবের ভয়ে তুমি আর 
কতরাত জানালা বন্ধ করে শোবে নন্দীতা
চন্দ্ররাত তো তোমারই। 
তুমি এবার সূর্যকেও বুঝে নেবে
ছাদে কাপড় মেলতে মেলতে।
রাক্ষস আসবে ভেবে
মরার আগেই তুমি মরবে না
তোমারও নখ আছে, দাঁত আছে
আছে অসীম সাহস;
দানবের দিন শেষ হবে আজ
তোমার রুদ্রাক্ষ রণহুঙ্কারে।
তুমি কেবল বেণী খোল নন্দিতা
পিশাচের বুকে কর পদাঘাত
জাগো নন্দিতা,
ওঠো ঘুম ভেঙে
এখন সময় শুধুই রাজকন্যাদের,
এখন সময় তোমার।
Posted by এম.জামান |
শহুরে বালিকা যখন আমি
তখন কেবল দূর্বা ঘাস আর
সার্কিট হাউজের কৃষ্ণচুড়াই চিনতাম।
ব্যাচেলর কোয়ার্টারের দীঘির পাড় জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা
সারি সারি নারকেল গাছও চিনতাম বেশ।
স্কুল ছুটির শেষে পিঁপড়ের মত
নারকেল ফুল চুষে চুষে খেতাম।

বাজারের থলে ভরে বাবা লাল টুকটুকে

টমেটো আনতো যখন
সারা মেঝে গড়িয়ে ছড়িয়ে যেত সে রঙ
আমি খুশিতে ছটফট করে উঠতাম
সবচাইতে লাল আর সবচাইতে তুলতুলে
টমেটো-টা আমার যে দখল করতেই হবে।
কোন কোনদিন গোল আলুতেও হুটোপুটি খেতাম
আর যেদিন লালমুকুট পরা
মোরগ ঢুকতো ঘরে বাবার সাথে সাথে
সেদিন কথার বন্যা বইয়ে দিতাম
ওর সাথে…
ওর নরম পালকে, মুকুটে
আমার আদর খুলে খুলে আসতো।

চাল নিয়ে ওর মুখের সামনে

আমার অনুনয় যেইনা আজ্ঞাপ্রাপ্ত
তখনই বাবা ছুরি বের করে আনতো
শুরু হতো মরন কাঁদন আমার
কিছুতেই মেনে নিতে পারতাম না
ঐ লক্ষীসোনা মোরগটা দিয়েই কিনা
দুপুরে ভাত খেতে হবে আমাদের।


বিকেল হলেই রুপসার ঐ পার হতে

গল্লামারির আকাশ অব্দি
বকের মালায় ভরে যেত।
আমার অবাক চোখ হা করে গিলত সেসব
আর আম্মুকে হয়রান করে
তুলতাম বলে বলে, ওরা কোথায় যায় এত?

কালো কা কা পাখিটা তো রোজ

খাবার নিয়ে পালাতো
আমার হাত থেকে।
কি সব ভয় হতো আমার দাঁড়কাক দেখলে
"ভুতের ভাই না বোন
না জানি কে ও"
দৌড়ে আম্মুর আঁচলের ভেতরে লুকোতাম।

একদিন দুম করে আমরা

শহর ছেড়ে গ্রামে চলে এলাম
স্কুলের মাঠ, খেলার সাথী সব ছেড়ে
পেলাম কিনা হাতের মুঠোয় আস্ত জোনাক পোকা।
খোলা আকাশের নিচে কাঠের চুলোয় আম্মু যখন
ধোঁয়া তুলে ভাত রান্না করতো
কি দারুন লাগতো গন্ধটা।
মাটি কুপিয়ে একদিন আমরা টমেটো গাছ লাগালাম
ফুলকপি, মটরশুটি আরও কত কি
বাগান ভরে ফেললাম সবুজে।
সকাল – সন্ধ্যে গাছের গায়ে লেগে থাকতাম
না জানি কখন ধরে আমার লাল-টুকটুকে টমেটো
হঠাৎ একদিন বাগানের পুব কোনটা
ঘন সবুজে ভরে গেল
আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম
দেখ দেখ মাটি থেকে কি বের হয়েছে
বাবা দৌড়ে এসে বললো “এতো আলু গাছ”
আমি বললাম – এ বুঝি আলু গাছ!
আলু কই বাবা?
বাবা হাসলো।

মহা উৎসবে পরে আমরা মাটি খুঁড়ে আলু তুলেছিলাম

সে কি বিস্ময় আমার!
যেদিন প্রথম কাঁচা টমেটোয় লাল রঙ লাগলো
ওমনি সারা বাড়ি মাতোয়ারা
কত কত লাল মুকুট পরা মোরগে
ভরে গেল আমাদের উঠোন।
আম্মুর লাউয়ের মাচায় টুনটুনি
যেদিন বাসা বাঁধলো সেদিন
আর চোখ সরাতে পারিনা আমি
এত এত রহস্য এই গ্রামে
ভেবেই মরতাম খালি।
দুটিতে মিলে চারটি হলো এক সকালে
সেই খুশিতে স্কুল কামাই হলো বেশ।

আরও্ আরও সব রহস্যের ভুবনে

হারিয়ে গেল শহুরে ছোট্ট বালিকাটি।
জানতে জানতে এখন আমি সব জানি
গুড় কিসে হয়, কি করে পিঠে হয়
কচুর লতিতে কোন মাছ দিলে স্বাদ হয়
সঅব জানি।

শহুরে চোখে গ্রাম চেনার

সেই আনন্দ সেই উৎসব
সেই ঘোর নিয়ে আজো আমি
লাফিয়ে উঠি রাজপথে হঠাৎ
একটা ঘোড়ার গাড়ি দেখলে
আজও আমি চিৎকার দিয়ে উঠি
অচেনা ভীড়ে চেনা মুখ দেখলে
    তুই!
    তুমি!
    আপনি!
আজ আমি আলুগাছের মতো
মানুষ খুঁড়ি, হৃদয় উপড়ে উপড়ে খুঁজি
স্নেহ, ভালোবাসা, বিশ্বাস।
কি শহরে, কি গ্রামে।
Posted by এম.জামান |
এত যে আদর ভালোবাসা সব ফেলে
ইচ্ছে হয় উড়ি
শিমুল তুলোর মত হাওয়ায় হাওয়ায়
       উড়ি, নরম সফেদ হয়ে উড়ি।
এত শত লোকের ভীড়ে মনে হয়
আমি নেই, নেই আমার ভেতরের আমি
আমি যেন হয়ে গেছি
আকাশের ঐ মেঘ
ভেসে ভেসে যাই উত্তর হতে পশ্চিমে
তবু ডাকনামে কে যেন ডাকে
ফিরে তাকাই অকেজো আমি।
স্বপ্নের আলোয় আমি ঠিক একদিন 
মেঘ হবো, হবো তুলোর মতোন
তুমি দেবে কি সেই ছুটি?
ঘ্রাণ নিয়ে দেখো একবার
           আমি কিরোম স্বপ্ন হয়ে গেছি
ঘুম ভেঙ্গে দেখবে একদিন আমি নেই।
Posted by এম.জামান |
ভেবে দেখেছেন কি দিন দিন ভাল মানুষের সংখ্যা হাতের পাঁচ আঙুলের কড়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেন? কারনগুলো যে আমরাই আর আমাদের নিত্যদিনকার আচার-আচরণ, তাই জেনে অবাক হবার কিছুটি নেই। দেখুন না আজকাল এর মুখে ওর মুখে রসগোল্লার চেয়েও রসাল স্বাদের গল্প কেমন ছোটাছুটি করে বেড়ায় জানিসতো ওমুক না পাক্কা ঘুষখোর, ঐ লোকটা তো আস্ত বদমাশ, শয়তানের হাড়, অথবা বলি কিপটুসের বাসা। জেনে অথবা না জেনেই এই অভ্যেসটা আমরা দারুণভাবে রপ্ত করে ফেলেছি। আড্ডায়, চায়ের আসরে কি ফোনে, চ্যাটিংয়ে সর্বক্ষেত্রেই কেবল এর নিন্দে ওর বদনাম। এছাড়া যেন আমাদের চলেই না। গল্পের সাথে সাথে পরনিন্দের সস না মেশালে আমাদের মজাই লাগেনা কিছুতে। এতে করে আমার আর আপনার ক্ষতিটা কোথায় হচ্ছে জানলে রীতিমত আঁতকে উঠবেন।

পরিবারে, সমাজে বড়রা যা কিছু করে ছোটরা তাই দেখে তাই করে এবং তাই ওদের ব্যাক্তিত্ব বিকাশে প্রভাবিত করে। আমরা বড়রা অনেক ভুল অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে শিশুদের নিয়ে যাচ্ছি। যার ফলাফল কিন্তু সকলকেই ভোগ করতে হচ্ছে এবং হবে। শুধুমাত্র তাই নয় আমরা শিক্ষিত-অশিক্ষিতি সকলেই চরম মাত্রার একটি ভুল কাজ করে চলেছি, আর তা হোল বাচ্চাদের সামনেই আমরা এমন সব টিভি নাটক, সিনেমা অথবা গান দেখে থাকি যা কি না তাদের আনকোরা মস্তিস্কে ও মননে চিরতরে গেঁথে যাচ্ছে। ছোটরা না পারছে আমাদের কাছ হতে কিছু শিখতে, না পারছে টিভি থেকে কিছু নিতে । ওদের কাছে ভালো মানুষ হবার না আছে ভাষা, না আছে অসাধারণ কোন গল্প, না আছে কোন বিদ্যে।

সত্যিকার অর্থে ভাল মানুষ আসলে কি?

যে সর্বদা সৎ পথে চলে, ভাল আচরণ করে, অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং কারোর খারাপ করেও না, চায়ও না; তাকেই সোজা কথায় ভালো মানুষ বলি আমরা। ধর্মগ্রন্থগুলোতেও তো এই কথাই লেখা আছেঝ তাই না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লাম, পুঁজো দিলাম, দরগায় গেলাম সিন্নি দিলাম আর আমি ভালো মানুষ হয়ে গেলাম। তা হলে তো গুনে শেষ করা যেত না ভালো মানুষের সংখ্যা। এত আর হাহুতাশ করতে হতো না কাউকে ভালো মানুষ কি আর আছে দুনিয়ায়? সে যা হোক, আমি ভাবতাম বুঝি শহুরে মানুষদের চাইতে গ্রামের মানুষগুলি বোধহয় ভালো আছে। অন্তত সেখানকার বাচ্চারা ভালো মানুষ হবার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু কি জানেন, আমায় পুরোপুরি হতাশ হতে হয়েছে গ্রামের মানুষদের কাছেও। এ বছরই জানুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে গ্রামে গিয়েছিলাম বেড়াতে। সে এক অজপাড়া গাঁ। জেলা শহর ছাড়িয়ে থানা শহর। সেই থানা হতেও আরও আরও গভীরের এক গ্রাম।

ভেবেছিলাম কদিন গ্রামের পরিবেশে মন শরীরকে চনমনে করে তুলব, বিশুদ্ধ করে তুলবো চিন্তা-চেতনাকে। কিন্তু কোথাইবা গেল সেই বৃন্দাবন আর কৈ গেল সেই রাধা! গ্রাম যে গ্রাম আর নাই হয়ে গেছে শহুরে অ্যাকুরিয়াম। তাই দেখে-শুনে মন ভার হয়ে গিয়েছিল আমার. পিঠে বানানোর সকাল, মুড়িমাখা বিকেল, রুপকথার রাত সঅব যেন দুম করে উধাও হয়ে গেছে। হাওয়ায় যেন মিলিয়ে গেছে গ্রামরে মানুষের মুখের সহজ-সরল হাসিটুকু। উধাও হয়ে যাওয়ার জন্যে যে দুষ্টু ডাইনী বুড়িটা দায়ী তাকেও কিন্তু খুঁজে পেলাম ঐ সব পাড়াগাঁয়ের চালা ঘরেই।কি দারুন উৎসবে দাদী, নানী, চাচা, চাচী, নাতিটা, পুতিটা, ও পাড়ার আব্দুল, তার নয়া বৌ আর সাথে খুদে পানা সব শিশুর দল গোল হয়ে হা মুখে আর চমক লাগা চোখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে স্টার জলসার নাটক গিলছে। সময় কাটানোর এরচেয়ে ভালো উপকরন আমি তাদের ওখানে আর একটাও দেখিনি। কোন কোন বাড়ির বাচ্চাদের আবার ঘুম হতো না টাপুর-টুপুর বা অলক্ষি না দেখলে। অথচ এই সমস্ত নাটকগুলোর মূল উপজীব্যই হলো কুটকচালী, শয়তানি আর অন্যদিকে চোখের জল! পন্ডিত নয়তো ডালিম কুমারের গল্প শোনাত। কি মধুরই না ছিল গ্রাম। আর এখন বাচ্চারা কি শিখছে দেখুন বোনে বোনে হিংসে করতে হবে, পরচর্চা করতে হবে আর ভাল হলে কাঁদতে হবে। তো এই বাচ্চাদের আমরা কি করে ভালো মানুষ হবার পথ বাতলে দেবো?

অন্যদিকে শহরের বাচ্চারা তো আরও আজব জীবের মত বড় হচ্ছে। বাবা-মা দুজনই সমস্ত দিন নানা কাজে ব্যাস্ত, আর দিন শেষে টিভি নিয়ে হুল্লোর। পড়াশুনা সে তো হচ্ছেই। নামকরা স্কুল, অভিজ্ঞ শিক্ষক, কোচিং সে কি এমনি এমনি। বস্তুত সিলেবাস রপ্ত করে পরীক্ষায় ভালো নম্বর তুলতে তুলতেই আমাদের আমাদের বাচ্চারা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেআর বড়দের মত হবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা ভালো মানুষ হবার সুযোগ এবং পরিবেশ কোনটাই পাচ্ছে না। কি গ্রাম কি শহর সবখানেই একই দুরবস্থা।

মনে আছে ছেলেবেলায় বাসা থেকে বের হবার সময় রোজ আম্মু বলে দিতেন, “বাবু রাস্তায় কিছু পড়া থাকলে ধরবে না, কারুর সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না, এ্বইভাবে প্রতিদিন মায়েরা-বাবারা, গুরুজনেরা সদুপদেশ দিতেন কিংবা নীতি গল্প শোনাতেন। এখনকার মায়েদের সে সময়ইবা কোথায়?

আমরা বড়রা কেবল বলাবলি আর আলোচনাই করে যাচ্ছি দূর্নীতি আর অসৎ মানুষে দেশটা ভরে যাচ্ছে। কিন্তু আমরাই যে এর জন্য দায়ী, সেটা কি একবারও ভাবি।

আমার আপনার মায়েরা নির্দিষ্ট সময় ছাড়া টিভি খুলতেন না, এমনকি নির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া দেখতেও দিতেন না। বড়রা কথা বলার সময় হুশিয়ার থাকতেন যেন ছোটরা শুনতে না পায়। কত সতর্ক আর সচেতন পরিবারই না ছিল তখন।

একটা কথা কিন্তু আমাদের সকলকেই মাথা পেতে নিতে হবে আর তা হলো ভালো পিতা-মাতা, ভালো পরিবার না হলে আমরা না হলে আমরা ভালো মানুষও পা্বনা। আজ যেখানে এই ভালো পরিবারই অদৃশ্য তখন হরদম চেচামেচি করেই কি দূর্নীতি ঠেকাতে পারবো আমরা? বাগানে ফুল না থাকলে মৌমাছিও আসবে না, মধুও পাবনা এটা সকলকেই মনে রাখতে হবে।

জানি আমাদের হাড়মজ্জায় অনিয়ম, দূর্নীতি আর অন্যায় শেকড় দাবিয়ে বসে গেছে। এই আমরা বদলাতে বদলাতে চিতা নইলে কবরের বাসিন্দা হয়ে যাবো। তাই অন্তত আমাদের বাচ্চাদের ভালো মানুষ হয়ে ওঠার পরিবেশ দেই, সুযোগ দেই কেননা তাদের হাতেই তো আগামির পরিবার, সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্র।

প্রতিদিন আর কিছু না হোক সত্যি কথা বলার এবং সত্যকে চিনে নেবার অনুশীলন করাই। এর বেশি কিছু লাগেনা, “ব্যা ব্যা ব্লাক শিপেরউপর ছেড়ে না দিয়ে-
                                          “সদা সত্য কথা বলিবে,
                                                 পরচর্চা মহাপাপ
এগুলোকে গুরুত্ব দিতে শুরু করি। আমরা ঘরেই যে শিশুর তথা মানুষের আদর্শ বিদ্যাপিঠ তা যেন ভুলে না যাই। আমাদের বাচ্চারাই একদিন ভালো মানুষ হয়ে উঠবে। দূর করবে সকল অনাচার।

পরিশেষে একটি ঘটনার কথা বলেই শেষ করবো আমার এই লেখাটি।
ঘরে বসে সমস্ত দিন বই পড়ি নয়তো গান শুনি। গত পড়শু একটা গান শুনছিলাম, যা আমার ভারী পছন্দের-
          এই কথাটা ধরেই রাখিস মুক্তি তোরে পেতেই হবেতো পাশের বাসার এক আপা কাছে এসে বললেন, “এই গানটা আমার কাছে ভালো লাগে, কিন্তু কি বলে ঠিক বুঝতে পারিনাএটা কি কোন দেশকে মুক্ত করার গান?”

আমি তথন তাকে তিন-চার বার গানটা শোনালাম। এবং সহজ ভাষায় তাকে সত্যিকারের মুক্তির কথা বললাম। ততক্ষনে সে কাঁদছে। আমি কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যাবো না তবে মনে হয় আমাদের রক্ত প্রবাহের মধ্যে মুক্তির দিকে যাবার একটা তাড়া আছে। আমরা সকলে সেই মুক্তির আশায় উন্মুখ হয়ে থাকি। তা সে যে ধরনের মানুষই হই না কেন। কিন্তু আমরা তো বুঝি না আসলে কোনটা মুক্তির পথ আর কিবা আমাদের উদ্দেশ্য। জল থাকতেও আমরা পাকে গড়াগড়ি খাচ্ছি সবাই।

মুক্তি তো আমাদের বিবেকের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে, সকল রকমের অন্যায়, অবিচার, অসত্যের কাছ থেকে পেতে হবে। নইলে ঐ মহাবিচারকের কাছে দাঁড়াবো কোন মুখে, কি হাতে? পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থেই তো সত্য বলার কথা লেখা আছে আসুন না আমরা সত্য বলার সাহস করি, বাচ্চাদের সৎ মানুষ হতে সাহায্য করি। তবেই না ভালো মানুষের সংখ্যা বাড়বে। তবেই না দূর হবে দেশ হতে সকল অনাচার, হিংসে, দলাদলি আর অস্থিরতা।

                          এই কথাটা ধরেই রাখিস মুক্তি তোরে পেতেই হবে
                     যে পথ গেছে পাড়ের পানে সে পথে তোর যেতেই হবে।
                                                     -   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
Posted by এম.জামান |


গত ২৪ তারিখ হতে ২৬ তারিখ পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে হয়ে গেলো এক্সপো মালয়শিয়া ২০১২। মালয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বেশ কিছু নৃত্য শিল্পী এসেছিল ওদেশ থেকে এদেশে। অনেকটা দৈবক্রমেই পরিচিত হবার সুযোগ পেলাম ঐ দলটির সাথে। তাদেরই একজন ছিলেন প্রফেসর আমানদাস পল। তাঁর সাথে গোটা দুদিন এবং একদিনের পুরো সন্ধ্যে নানান বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ হয়েছে আমার। তিনি একাধারে একজন শিক্ষক, একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর এবং নৃত্য শিল্পী। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই সে আমার দেশের মানুষ ও শিল্পের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এই তো গেল আনুষ্ঠানিক কথাবার্তার বিষয়-আশয়, এবার বলবো তার সাথে বন্ধুত্বের আন্তরিকতার কথা।

স্বাভাবিক ভাবেই আমরা খুব দ্রুতই বন্ধু হয়ে গেলাম, সেই সাথে আমাদের স্বপ্ন ও কর্মের চিন্তাকে ভাগাভাগি করে নিলাম। সেই সুবাদেই আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানান কথা বলে ফেললাম। ওর জীবনের কথাগুলো যখন ও বলছিল তখন আমার চোখ ভিজে উঠছিল। বুকের ভেতর থেকে শ্রদ্ধা ও ভক্তি আপনা থেকেই বাষ্প হয়ে চোখের জানালায় উকি দিচ্ছিল।

ও যখন খুব ছোট তখনই ওর বাবা-মার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তারপরই শুরু হয়ে যায় বেঁচে থাকার জন্যে ওর মা এবং আমার বন্ধু সহ তাঁর দুবোন মিলিয়ে মোট চারজনের কঠিন সংগ্রাম। এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা আমান তাঁর দারিদ্র ও সংকটের দিনগুলোর কথা বলবার সময় এতটুকুও সংকোচ কিংবা লজ্জা বোধ করেননি। তাঁর মা ধার-কর্জ করে সব রকমের পরিশ্রমের কাজ করে তাঁদেরকে মানুষ করেছেন। তাঁদের গ্রামে তখন কেউ কাঠ পুরিয়ে রান্না করে থেত না, কিন্তু আমানের পরিবারকে কাঠ সংগ্রহ করে সেই কাঠ পুরিয়ে রান্না করে খেতে হয়েছে। কেবল তাই নয়, অর্থ কষ্টের জন্যে তাঁর দুবোনকে স্কুল পর্যন্ত ত্যাগ করতে হয়েছে। আরও আরও অনেক কষ্ট করে আমানকে এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। তাইতো প্রফেসর আমান নিজের কাছে সংকল্প করেছেন নিজের পরিবার ও তাঁর দেশের গরিব মানুষদের জন্যে সে জীবনের শেষ দিন অবধি নিরলস ভাবে কাজ করে যাবে। এই হলো তাঁর জীবন সংগ্রামের দৃশ্যপট। অথচ সে যখন নাচে, তখন কেবলই অভিভূত হতে হয়। আর যখন সে সংকল্পের কথা বলে তখন শুধু শ্রদ্ধাই করতে ইচ্ছে হয় ঐ ভিনদেশী স্বপ্ন পাগল মানুষটিকে।

আমরা দুজন মিলে গোটা দুনিয়ার চরম অশান্তির ও অমানবিকতার বিষয় নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছি এবং এই সব সমস্যা হতে উত্তরনের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমান ঢাকা ও ঢাকার চারপাশ ঘুরতে যেয়ে ভীষণ ভাবে মর্মাহত হয়েছে। চারিদিকে কেবল নোংরা আর নোংরা এবং সবুজহীন অবস্থা। পলিথিনের মতো মারাত্মক বিষয় নিয়ে যথন কথা বলেছি তখন মরিয়া হয়ে উপায় খুঁজেছি এর থেকে বাঁচার, সেই সাথে ঢাকার লেক, নদী ও জলাশয় গুলোর বেহাল দশা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তো ভাবনার শেষ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্তে আসি যে, জোড়ালো ভিত্তিতে কাজ করে যেতে হবে আমাদেরকে পরিবেশ ও শিশুদের সুস্থ শিক্ষার বিকাশ নিয়ে। ওর দেশ মালয়শিয়ায় ১৯৯৭ সালের আগে পর্যন্ত এদেশের মত অবস্থা ছিল। কিন্তু ভালো চিন্তার মানুষের হাতে কত সুন্দর ভাবেই না বদলে গেছে ধ্বংসের মুখে থাকা একটি দেশ। মাহাথির মোহাম্মদের কথা সকলেই জানি আর এও জানি কত সুন্দর ভাবেই না তিনি তার দেশকে পরিচালিত করেছেন।

আমি ও আমরা কতকিছু নিয়েই না চিন্তিত হই, পত্রিকায় বুদ্ধিজীবিদের কলাম পড়ে যারপরনাই মুগ্ধ হই। অথচ সামগ্রিক ভাবে কাজ করিনা আমরা কেউই। আসুন না, আমাদের জন্যে, আমাদের ভিনদেশী বন্ধুদের জন্যে এই দেশকে এই ঢাকা শহরকে সুন্দর করে গড়ে তুলিজলকে বাঁচাই, পাখিকে বাঁচাই, মানুষকে বাঁচাই এবং বাঁচাই আমাদের স্বপ্নকে। আজ থেকে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করি। ময়লাগুলোকে ছড়িয়ে না রেখে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলি। গাছে গাছে ভরিয়ে তুলি এই ঢাকাকে। সবুজের শামিয়ানায়, সবুজের গালিচায় সাজিয়ে তুলি আমাদের শহরগুলোকে।

আমার মালয় বন্ধু কথা দিয়েছে, সে এই দেশের জন্যে কাজ করবে আমার সাথে। এবং আমি জানি সে তা করবে। তাঁর সেই হৃদয় আছে। কারন সে তাঁর অতীতকে এক মুহুর্তের জন্যেও ভোলে না।

আফসোস! আমার দেশের মানুষগুলোর জন্যে। ভাগ্যগুনে যদি একবার ভালো রকমের টাকার মুখ দেখে, তাহলে আর তাকেঁ পায় কে? ভুলে যায় তাঁর গরীব আত্মীয়কে, ভুলে যায় তাঁর অতীতকে। আর হ্যাঁ সমাজসেবা তো করেনই, মসজিদে রোজ চাঁদা দেন, হজ্ব করেন, মোটাতাজা গরু কোরবানী দেন দেশের বুকে ফেলে রাখেন শুধু কয়েকটি ছেঁড়া নোট আর উচ্ছিষ্ট গুলো।

আমি আমার মালয় বন্ধুর মতোন এই দেশে কিছু বাঙালী বন্ধু পেতে চাই, যারা নিজের পরিবার ও দেশের গরীব মানুষদের পাশে দাঁড়াবে। ভুলে যাবে সব উঁচু-নীচুর ভেদাভেদ। প্রফেসর আমান একটা কথা বলেছেন টাকা সবকিছু পারেনা। ভালো স্বপ্ন আর ভালো চিন্তাই সম্ভব করে তুলতে পারে সবকিছু। এই পৃথিবী অল্প দিনের জন্য আমাদের থাকতে দিয়েছে, তাই আমরা পৃথিবী থেকে মুছে যাবার আগেই পৃথিবীর বুকে ভালো কাজের ইতিহাস সৃষ্টি করি। আমার আপনার নাম কেউই মনে রাখবে না এমনকি আমাদের অতিপ্রিয় সন্তানেরাও না। যদি আমরা ভালো কাজ করি তবে তার মূল্য কখনোই হারিয়ে যাবে না।

অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রফেসর আমান তোমাকে। তুমি আমার দেশেকে নিয়ে ভাবছো। এবং তোমার সুস্থ- পরিচ্ছন্ন দর্শন দিয়ে সবকিছুকে সুন্দর ও কল্যাণকর করে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছো। এমনকি তুমি তোমার আবেগ ও শ্রদ্ধা দিয়ে আমার ভাষাকেও শিখবার চেষ্টা করছো। সেজন্যে তোমার ভাষাতেই তোমায় বলবো তেরেমা কাসিহ্ (ধন্যবাদ)।


নিশ্চই তুমি আমার দেশে আবার আসবে এবং নিশ্চই আমরা স্বপ্নবান মানুষেরা মিলে তোমায় সুন্দর ঢাকা শহর দেখার সুযোগ করে দেবো।  
Posted by এম.জামান |
বাদামের খোসার মত ভাগ হতে
                 বলিনি তোমায়
                 বলেছি মাঝ নদীতে 
স্রোতের আলিঙ্গনে মাতাল হয়ে থাকা
                 কচুরীপানার সবুজ শরীর    
                 ঘিরে এক দ্বীপ হতে।
ঘরের কোনায় মনোরম টবে
                 রূপ ঢালা শহুরে
                 নারীর মতন অনাবৃত লাবন্যে
বাজারি দরে স্থীর হয়ে থাকতে তোমায় বলিনি।
                 উদার আকাশের নীচে
                 বন্য রহস্যে
হয়ে ওঠো মায়াবী তরুর দল।

এভাবে কাঁচের মতন ভেঙ্গে

                 গুড়োগুড়ো না হয়ে
অবিচল পারদ হয়ে ওঠো তুমি
                 বিশ্বাসের দেয়াল জুড়ে
কোন এক অচীন পাথার পেরিয়ে
                 নিমগ্ন গ্রামের ভেতর
আস্ত একটা সাঁকো হয়ে ওঠো তুমি
                 ভালোবাসার এপার হতে ওপারে।
কঞ্জুস শহরের কিপটে বারান্দা
                 ছেড়ে নেমে এসো চট করে
অঁজ গাঁয়ের খোলা আঙ্গিনায়
                 ঝুলন্ত মানিপ্ল্যান্ট নয়
হয়ে উঠবে তুমি মাচা ভরা আনাজ, কুমরোর কিশোরী ডগা
                 নয়তো মরিচের ঝোপ, পেঁপের ত্বক।

বাহারী সিল্কের সোনা-রুপো মাছ

                 নরম সোফার ঘরে চর্কি নাচ নাচন ছেড়ে
হুটহাট নেমে পড় তুমি কলমি ডোবা শীতল জলে
                 চাষার বউয়ের গোসল দেখ
মোরগ ডাকা বিয়ান কালে।


                 এমনি জীবন পেতে পেতে বলবে তুমি রোজ সকালে

                 ধন্য কেমন... মানব... জনম...
Posted by এম.জামান |
ও মেঘ! ও আমার শ্রাবণ দিনের মেঘ
তুমি একটু জলদি এসো
বাংলাদেশের আকাশ ঘরে...
হাজার কদম দেবো তোমায়
কাজল কালো কেশের খোঁপায়।
শাপলা ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে
                     দেবো গড়ে
বালিশ চাদর দশ খানা
তাড়াতাড়ি চলে এসো দেড়ি করো না।
আমার মা যে রোদ 
                 গায়ে মাখতে পারে না।
Posted by এম.জামান |
সন্ধ্যার মত অবধারিত শোক
তোমার ঐ কালো টিপ!
একটাও কি নেই তোমার
লাল অথবা নীল কিংবা অন্য যে কোন রঙের টিপ?
কালোতে তোমায় মানায় ভারী
মা কালীর দিব্যি... কালোতে নেই আপত্তি
তবুও না হয় আজ পর সবুজ...
ঠিক যেন নির্বাসনে যাওয়া এক দ্বীপ।
লালও মানাত আজ তোমায় 
টকটকে আগুনে লাল...
জ্বলত না হয় হৃদয়টি।

কি মহাশোকে, কি মধুর করে

রোজ শত অনুনয় উপেক্ষা করে
পড় তুমি কালো, কি ভীষণ কালো টিপ!
এতদিন বাদে আমায় ছেড়ে যাবার আগে
নেবে কি ছোট্ট এক উপহার আমার
‍'এক পাতা রংঙিন টিপ'
নিউমার্কেটের ফুটপাথ থেকে কেনা।
কানাডা গেলে পরবে না হয়
ওদেশের মেয়েরা জানতেও পায়না
টিপের কি মাহাত্ব্য...
তোমার কপাল জুড়ে থাকবে না হয়
বাংলাদেশী টিপ, আমার আশীর্বাদ।
সবুজ পরবে মার্চে, ডিসেম্বরে লাল
আর নীল পরো ভ্যালেন্টাইনে
খয়েরী তোমার জন্মদিনে
মাঝে মাঝে অন্য রঙ
আর আমার মানে, আমাদের এই বিচ্ছেদ দিনে 
এই একটি দিনই শুধু পরো কালো টিপ।
Posted by এম.জামান |
ক্রমাগত জলের অতলে ডুবে যাওয়া
সোনা রঙয়ের চাবী আমার
তোমার জন্যে আমার ভারি মন খারাপ হয়।
সাঁতার জানিনা বলে তোমায়
ছেড়ে এলাম অচেনা নদীজলে
তাই বলে এই ভেবো না,
দরজা আমি খুলতে পারিনি
খুলেছি, তবে তোমার যাখানি
ছিল আমার গচ্ছিত সযতনে
সঅব কেমন যেন লুটপাট হয়ে গেছে...
আমি আর পারিনা
দরজা আটকাতে।
Posted by এম.জামান |
সত্যিই আর ফেরা যায় না
যা কেবল হারিয়ে যায়
তা আর মুঠোতে আনা যায় না
আকাশ তো সকল দেশের সকল মানুষের
ওকি পর হয় কখনো...
তবুও আকাশ ভীষণ দূর...

কী ভীষণ দূর!
Posted by এম.জামান |
আজকাল পেঁয়াজ কাটতে গেলে
তোমার চোখ দিয়ে জল গড়ায় না
তুমি কি ভালো সংসার করছো
কি সুন্দর ঝরঝরে পোলাও
রান্না করতে পারছো
মিনিটে মিনিটে নুন চাখতে
হয় না আর তরকারিতে।
অথচ এই তুমি কি না পারতে
আমি অবাক হয়ে ভাবি
বেনীতে কনকচাঁপা গেঁথে
সারা পাড়া মাত করতে
তোমার কন্ঠে রবীন্দ্র সঙ্গীত
কি মোহনীয়ই না হয়ে উঠতো।
বৃষ্টি নামলেই তুমি সহস্র
নদী হয়ে ঢেউ তুলতে।
আর আমার সামান্য শর্দিতে
তোমার হাত থার্মোমিটার হয়ে যেত
দরদ ঢেলে বলতে ---------
         '
ইশ: কত্ত জ্বর"
মনে মনে খুব ভাবি
আমার কেন ঠান্ডা লাগে না
জ্বর হয় না
কেন তোমার ঐ অধীর হাত
আমার কপালে স্থির হয় না।
বারান্দায় তোমার ভিজে জামায়
আমার খুব ঠান্ডা লাগে জানো।
তোমার কি আর বৃষ্টি ভালো লাগে না
ট্যাংরা মাছ কুটতে গেলে
হাতে কাঁটা লাগে না।
ভরা জোৎস্নায় আর একবারও কি
তুমি গেয়ে উঠবে না
দুর্লভ কন্ঠে -----------
         '
আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী
'

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৩

Posted by এম.জামান |
গতকাল তুমি রাজশাহী গেলে
এখানে থেকে থেকে বৃষ্টি মাতম জুড়ে দিচ্ছিল
তোমার ওখানে কি ছিলো
মেঘের এমন দস্যিপনা, বৃষ্টির এমন দাপট।

রাজশাহী বড় শান্ত শহর

যেমন শান্তিপ্রিয় তুমি

মানুষ ভুলে যায় যেমন করে

তেমন করে যদি ভুলে যেত আকাশ
তবে কি ডাকত এমন মেঘ!
ঝরত এমন আকুল করা বাদল।

ভুলত যদি সূর্য, চাঁদ... নদী

তবে কি কুরক্ষেত্রই না হত বল...


রাজশাহীর আকাশ কি ভুলে গেছে তোমায়?


নইলে কেন বৃষ্টি হলনা গতকাল সেখানে

আবহাওয়া বার্তা কি ভুল ছিল?
গতকাল তো গোটা বাংলাদেশ ভিজেছে
অভিমান করা সোহাগী জলে
তুমি কেন বাদ গেলে?

প্রিয় আকাশ, রাজশাহীতে

আজ মেঘ দিও, বৃষ্টি দিও
আমার সাত জনমের বসন্ত
তোমার কাছে বন্ধক রইল
তবু তুমি বৃষ্টি দিও রাজশাহীতে।

'ও' যে এখন ওখানে...